০৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি ৭ নভেম্বরের চেতনা নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন’

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি ৭ নভেম্বরের চেতনা নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের ইতিহাস বিকৃত করেছে। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। ইতিহাস চর্চা না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিকৃত ইতিহাস নিয়েই বেড়ে উঠবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদের ওমর ফারুক মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে শুধু মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই হবে না। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি ভূখণ্ড, একটি দেশ ও একটি জাতি পেয়েছি। আর জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পেয়েছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে। তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেদিন সিপাহি-জনতা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে দেশের দায়িত্ব না দিলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোন অবস্থায় থাকত, তা বলা কঠিন। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। মুক্তিযুদ্ধের।’

নিজের পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার বাবা বৃহত্তর বরিশাল ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরে তিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হন। বাকশাল প্রতিষ্ঠার সময় তার বাবা, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও মাইনুল হোসেন পদত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, জেলহত্যা মামলায় তার বাবাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার ছোট চাচাকে সাত বছর কারাভোগ করতে হয়েছে। তার মাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হতে দেওয়া হয়নি, বরং ওএসডি করা হয়েছিল। তার বাবার গড়ে তোলা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনাগুলো সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবার দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত পরিবার ও তার পরিবারকে দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে নির্যাতিত পরিবার হিসেবে দাবি করেন।

দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও তা বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও দেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ, মানবিক, সাম্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রব্বানী।

অনুষ্ঠানে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহীন রেজা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নব গোপাল সাহা।

আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

       

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১১:২৫:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
৩

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি ৭ নভেম্বরের চেতনা নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন’

আপডেট: ১১:২৫:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি ৭ নভেম্বরের চেতনা নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের ইতিহাস বিকৃত করেছে। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। ইতিহাস চর্চা না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিকৃত ইতিহাস নিয়েই বেড়ে উঠবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদের ওমর ফারুক মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে শুধু মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই হবে না। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি ভূখণ্ড, একটি দেশ ও একটি জাতি পেয়েছি। আর জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পেয়েছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে। তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেদিন সিপাহি-জনতা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে দেশের দায়িত্ব না দিলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোন অবস্থায় থাকত, তা বলা কঠিন। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। মুক্তিযুদ্ধের।’

নিজের পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার বাবা বৃহত্তর বরিশাল ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরে তিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হন। বাকশাল প্রতিষ্ঠার সময় তার বাবা, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও মাইনুল হোসেন পদত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, জেলহত্যা মামলায় তার বাবাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার ছোট চাচাকে সাত বছর কারাভোগ করতে হয়েছে। তার মাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হতে দেওয়া হয়নি, বরং ওএসডি করা হয়েছিল। তার বাবার গড়ে তোলা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনাগুলো সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবার দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত পরিবার ও তার পরিবারকে দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে নির্যাতিত পরিবার হিসেবে দাবি করেন।

দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও তা বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও দেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ, মানবিক, সাম্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রব্বানী।

অনুষ্ঠানে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহীন রেজা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নব গোপাল সাহা।

আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।