ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের কাছ থেকে ছাত্রলীগ নেতা ছিনতাই, মামলা, গ্রেপ্তার ২
মীর শুয়াইব, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:- ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের হেফাজত থেকে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীনকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশ সদস্যদের মারধর ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়েছে। মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে উপজেলার সরিষা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের কাছে আরশাদুলের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা একাধিক মামলার আসামি শাহীনকে গ্রেপ্তার করেন। পরে ভাড়ায় নেওয়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁকে থানায় নেওয়া হচ্ছিল।
পথে একদল ব্যক্তি অটোরিকশাটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ পুলিশের। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা পুলিশ সদস্যদের মারধর করেন এবং অটোরিকশাটি ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে পুলিশের হেফাজত থেকে শাহীনকে নিয়ে চলে যান তাঁরা।
ঘটনার খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে অভিযান চালিয়ে ওয়াসীম মিয়া (২৬) ও এমদাদুল হক (৪৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যরা ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
মামলার এজাহারে গ্রেপ্তার দুজনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্তরঙ্গ ক্লাবের কয়েকজন সদস্যসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জন নারী-পুরুষকে আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের হেফাজত থেকে গ্রেপ্তার আসামিকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার বিষয়টি তদন্তের আওতায় এসেছে। ঘটনার সময় কী পরিস্থিতিতে আসামিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এতে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।



















