০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার আফিলগেটে সুদে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন, অভিযুক্ত সিয়াম বলেন মিথ্যা ও বানোয়াট

খুলনা প্রতিনিধি:- খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন আফিলগেট এলাকায় সিয়াম ও প্রিয়া নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুদের কারবার, অতিরিক্ত টাকা আদায়, হুমকি-ধমকি ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডে এলাকার ৫০ থেকে ১০০টি পরিবার অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় আফিলগেটে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী’র উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, অল্প পরিমাণ টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে গিয়ে তাঁদের কয়েক গুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। এরপরও অনেকের কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে হুমকি-ধমকি দেওয়া, মামলা করার ভয় দেখান।

এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে সিয়ামের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ওই ঋণের বিপরীতে ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও ছেলের কাগজপত্র ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, অল্প টাকা নিয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে তাঁদের মতো দরিদ্র পরিবারের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক পুরুষ ভুক্তভোগী জানান, তিনি ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে কী শর্তে তিনি তিন গুণ টাকা পরিশোধ করেছেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।

মজনু নামের এক ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপরও টাকা পরিশোধে কখনো অপারগতা প্রকাশ করলে সিয়াম তাঁর ছেলেকে হুমকি-ধমকি দিতেন বলে দাবি করেন তিনি।

অপর এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ৫ হাজার টাকা ঋণ নেওয়ার পর তা পরিশোধ করতে না পারায় তাঁর কাছে ৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করলে জেলে পাঠানোর ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ঋণ পরিশোধের জন্য ছয় থেকে সাত মাস সময় দেওয়া হতো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে না পারলে মামলা করা হতো। এ ছাড়া ঋণের বইয়ে ইচ্ছেমতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, মাত্র ৫ হাজার টাকা ঋণ নেওয়ার সময়ও তাঁদের কাছ থেকে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প নেওয়া হতো। এসব অভিযোগের কারণে তাঁরা আর্থিক সংকটের পাশাপাশি মানসিক চাপ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

মানববন্ধনে ময়না, চুমকি, তাসলি, বেবি, লাভলু, পারভিন, মজনু, সোহেল, তাসলিমা ও হাবিবসহ একাধিক ভুক্তভোগী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, হয়রানি বন্ধ এবং কথিত সুদের কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযুক্ত সিয়াম জানান, মানববন্ধনে উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি একজন ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবসায়ী। আমার একটি নিবন্ধনকৃত প্রতিষ্ঠান আছে, যার মাধ্যমে আমি গরিব ও অসহায় মানুষদের ঋণ সেবা দিয়ে থাকি। ব্যাবসায়ীক ও ঋণকৃত অর্থের নিরাপত্তার জন্য আমাকে কিছু কাগজপত্র ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে নিতে হয়। তবে বর্তমানে আমি আমার ব্যবসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সকলকে টাকা পরিশোধের তাগাদা দেই, আর এই টাকা যাতে ফেরত দেওয়া না লাগে তার জন্যই কথিত মানববন্ধনের মাধ্যমে এই অপপ্রচার ও অপচেষ্টা।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৯:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
২২

খুলনার আফিলগেটে সুদে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন, অভিযুক্ত সিয়াম বলেন মিথ্যা ও বানোয়াট

আপডেট: ০৯:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

খুলনা প্রতিনিধি:- খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন আফিলগেট এলাকায় সিয়াম ও প্রিয়া নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুদের কারবার, অতিরিক্ত টাকা আদায়, হুমকি-ধমকি ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডে এলাকার ৫০ থেকে ১০০টি পরিবার অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় আফিলগেটে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী’র উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, অল্প পরিমাণ টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে গিয়ে তাঁদের কয়েক গুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। এরপরও অনেকের কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে হুমকি-ধমকি দেওয়া, মামলা করার ভয় দেখান।

এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে সিয়ামের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ওই ঋণের বিপরীতে ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও ছেলের কাগজপত্র ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, অল্প টাকা নিয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে তাঁদের মতো দরিদ্র পরিবারের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক পুরুষ ভুক্তভোগী জানান, তিনি ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে কী শর্তে তিনি তিন গুণ টাকা পরিশোধ করেছেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।

মজনু নামের এক ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপরও টাকা পরিশোধে কখনো অপারগতা প্রকাশ করলে সিয়াম তাঁর ছেলেকে হুমকি-ধমকি দিতেন বলে দাবি করেন তিনি।

অপর এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ৫ হাজার টাকা ঋণ নেওয়ার পর তা পরিশোধ করতে না পারায় তাঁর কাছে ৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করলে জেলে পাঠানোর ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ঋণ পরিশোধের জন্য ছয় থেকে সাত মাস সময় দেওয়া হতো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে না পারলে মামলা করা হতো। এ ছাড়া ঋণের বইয়ে ইচ্ছেমতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, মাত্র ৫ হাজার টাকা ঋণ নেওয়ার সময়ও তাঁদের কাছ থেকে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প নেওয়া হতো। এসব অভিযোগের কারণে তাঁরা আর্থিক সংকটের পাশাপাশি মানসিক চাপ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

মানববন্ধনে ময়না, চুমকি, তাসলি, বেবি, লাভলু, পারভিন, মজনু, সোহেল, তাসলিমা ও হাবিবসহ একাধিক ভুক্তভোগী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, হয়রানি বন্ধ এবং কথিত সুদের কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযুক্ত সিয়াম জানান, মানববন্ধনে উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি একজন ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবসায়ী। আমার একটি নিবন্ধনকৃত প্রতিষ্ঠান আছে, যার মাধ্যমে আমি গরিব ও অসহায় মানুষদের ঋণ সেবা দিয়ে থাকি। ব্যাবসায়ীক ও ঋণকৃত অর্থের নিরাপত্তার জন্য আমাকে কিছু কাগজপত্র ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে নিতে হয়। তবে বর্তমানে আমি আমার ব্যবসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সকলকে টাকা পরিশোধের তাগাদা দেই, আর এই টাকা যাতে ফেরত দেওয়া না লাগে তার জন্যই কথিত মানববন্ধনের মাধ্যমে এই অপপ্রচার ও অপচেষ্টা।