০৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

৫৪ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে করলেন শ্রীপুরের আনোয়ার হোসেন

শাহাদত হোসাইন, গাজীপুর প্রতিনিধি:-গাজীপুরের শ্রীপুরে ৫৪ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন মজনু কাইয়াঁ। জিপিএ-৪.৬৩ (এ গ্রেড) পেয়ে পাস করার পর থেকেই এলাকায় তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন এবং প্রশংসায় ভাসছেন।

​শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিন কাইয়াঁর ছেলে মজনু কাইয়াঁ এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

​১৯৭৩ সালে জন্ম নেওয়া মজনু ১৯৯১ সালে ত্রিমোহনী বিডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর বরমী ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও উচ্চতর গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। তখন পড়াশোনার ইতি টানায় আর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয়নি তার।

​কর্ম ও সাংসারিক জীবনের ব্যস্ততায় দীর্ঘ সময় শিক্ষাজীবন থেমে থাকলেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ ম্রিয়মান হয়নি। একে একে কেটে যায় ৩২ বছর। সংসার, ব্যবসা ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তবে মনের ভেতর অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন শেষ করার তীব্র ইচ্ছাটা ঠিকই বেঁচে ছিল।

​অবশেষে ৫৪ বছর বয়সে এসে গোপনে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ভর্তি হন গাজীপুরের পূবাইল টেকনিক্যাল কলেজে। এরপর একদিকে ব্যবসা আর অন্যদিকে সংসারের দায়িত্ব—সব সামলে শুরু করেন কঠোর অধ্যবসায়। দীর্ঘ বিরতির পর এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ-৪.৬৩ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

​বর্তমানে মজনু কাইয়াঁ ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়াঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে, বয়স শিক্ষার পথে কোনো বাধা হতে পারে না।

​নিজের এই অর্জন সম্পর্কে আনোয়ার হোসেন মজনু কাইয়াঁ বলেন, “নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী এবং যারা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের অনুপ্রেরণা জোগাতেই নিজের অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম।” তিনি এবার স্নাতকে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার বিশ্বাস, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো বয়সেই নতুন করে সফলভাবে শুরু করা সম্ভব।

​ছেলের এমন সাফল্যে ভীষণ আনন্দিত তার বৃদ্ধ মা আনোয়ারা খাতুন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে এই বয়সে এসেও লেখাপড়া করে পাস করেছে, এটা সত্যিই আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।”

​এ বিষয়ে ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়াঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রজব আলী মোড়ল বলেন, “লেখাপড়ার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই, যেকোনো বয়সে শিক্ষা লাভ করা মানুষের জন্মগত অধিকার। মজনু কাইয়াঁ একজন প্রকৃত শিক্ষানুরাগী এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সদস্য। তার এই ফলাফলে আমরা দারুণভাবে গর্বিত।”

​মজনু কাইয়াঁর এই অদম্য উৎসাহ ও সফলতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৮:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
০

৫৪ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে করলেন শ্রীপুরের আনোয়ার হোসেন

আপডেট: ০৮:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

শাহাদত হোসাইন, গাজীপুর প্রতিনিধি:-গাজীপুরের শ্রীপুরে ৫৪ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন মজনু কাইয়াঁ। জিপিএ-৪.৬৩ (এ গ্রেড) পেয়ে পাস করার পর থেকেই এলাকায় তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন এবং প্রশংসায় ভাসছেন।

​শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিন কাইয়াঁর ছেলে মজনু কাইয়াঁ এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

​১৯৭৩ সালে জন্ম নেওয়া মজনু ১৯৯১ সালে ত্রিমোহনী বিডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর বরমী ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও উচ্চতর গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। তখন পড়াশোনার ইতি টানায় আর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয়নি তার।

​কর্ম ও সাংসারিক জীবনের ব্যস্ততায় দীর্ঘ সময় শিক্ষাজীবন থেমে থাকলেও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ ম্রিয়মান হয়নি। একে একে কেটে যায় ৩২ বছর। সংসার, ব্যবসা ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তবে মনের ভেতর অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন শেষ করার তীব্র ইচ্ছাটা ঠিকই বেঁচে ছিল।

​অবশেষে ৫৪ বছর বয়সে এসে গোপনে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ভর্তি হন গাজীপুরের পূবাইল টেকনিক্যাল কলেজে। এরপর একদিকে ব্যবসা আর অন্যদিকে সংসারের দায়িত্ব—সব সামলে শুরু করেন কঠোর অধ্যবসায়। দীর্ঘ বিরতির পর এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ-৪.৬৩ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

​বর্তমানে মজনু কাইয়াঁ ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়াঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই সাফল্য প্রমাণ করে, বয়স শিক্ষার পথে কোনো বাধা হতে পারে না।

​নিজের এই অর্জন সম্পর্কে আনোয়ার হোসেন মজনু কাইয়াঁ বলেন, “নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী এবং যারা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের অনুপ্রেরণা জোগাতেই নিজের অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম।” তিনি এবার স্নাতকে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার বিশ্বাস, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো বয়সেই নতুন করে সফলভাবে শুরু করা সম্ভব।

​ছেলের এমন সাফল্যে ভীষণ আনন্দিত তার বৃদ্ধ মা আনোয়ারা খাতুন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে এই বয়সে এসেও লেখাপড়া করে পাস করেছে, এটা সত্যিই আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।”

​এ বিষয়ে ভিটিপাড়া কোব্বাত হামিদ কাইয়াঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রজব আলী মোড়ল বলেন, “লেখাপড়ার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই, যেকোনো বয়সে শিক্ষা লাভ করা মানুষের জন্মগত অধিকার। মজনু কাইয়াঁ একজন প্রকৃত শিক্ষানুরাগী এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সদস্য। তার এই ফলাফলে আমরা দারুণভাবে গর্বিত।”

​মজনু কাইয়াঁর এই অদম্য উৎসাহ ও সফলতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।