০৫:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

চলন্ত গাড়ি থেকে ‘ফিল্মি স্টাইলে’ চুরি করা ক্রিকেটারদের ৮টি লাগেজ উদ্ধার, আটক ৪

রাজশাহীতে ক্রিকেটারদের চুরি যাওয়া আটটি লাগেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে এসব লাগেজ উদ্ধার করা হয়। রাজশাহী পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন চারঘাট উপজেলার চামটা গ্রামের মোজাম্মেল হক (৩২), পুঠিয়া উপজেলার গণ্ডগোহালী জামতলা গ্রামের সোহান রহমান (২৩) ও বারইপাড়া গ্রামের রুবেল আহমেদ (৩৮) ও তারাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেন (৫২)। তাদের মধ্যে শাহাদতের বাড়ি থেকে এসব লাগেজ উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মোজাদ্দেদ জামানী জানান, ‌ক্রিকেটারদের চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের খবর শুনে তিনি রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আটক মোজাম্মেল হকের পরনে ক্রিকেটারদের ব্যবহৃত পোশাক দেখেছেন।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বুধবার সকালে আকাশপথে রাজশাহী ফেরেন বিভাগের ক্রিকেটারেরা। এর আগের রাতে দলের ৫৪টি লাগেজ নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয় বিসিবির একটি কাভার্ডভ্যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ওই কাভার্ডভ্যানের পিছু নেন। একপর্যায়ে তারা চলন্ত কাভার্ডভ্যানের তালা ভেঙে লাগেজ ও অন্য মালামাল নিয়ে যায়। পেছন থেকে আসা অন্য একটি গাড়ির চালক বিষয়টি কাভার্ডভ্যানের চালক সজীবকে জানান। পরে রাজশাহী শহরের হোটেল গ্র্যান্ড রিভারভিউয়ে পৌঁছে চুরির বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান কাভার্ডভ্যানের চালক।

কাভার্ডভ্যান থেকে লাগেজ নামানোর সময় দেখা যায়, বিসিবি ডিভিশন ক্রিকেট দলের মোট ৫৪টি লাগেজের মধ্যে ৪৬টি পাওয়া গেছে। বাকি আটটি বিভিন্ন আকারের লাগেজ নেই। এ ঘটনায় রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানায় বুধবার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় চোরের দলটিকে শনাক্ত করে জেলা ডিবি পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেনের বাড়ি থেকে মালামালও উদ্ধার হয়। উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, একটি ম্যাসাজ বেড, একটি ল্যাপটপ, চারটি প্লাস্টিকের বাক্স ও নগদ আট হাজার টাকা। এ ছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত তালা ভাঙার সরঞ্জাম ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঢাকা থেকে রাজশাহী আসার পথে বুধবার ভোরে নাটোরের হরিশপুর বাইপাস মোড়ে চালক গাড়ির তালা পরীক্ষা করে আবার যাত্রা শুরু করেছিলেন। ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে পুঠিয়ার তারাপুর মোড়ে চলন্ত কাভার্ডভ্যানের পেছন থেকে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তালা ভেঙে লাগেজ ও অন্যান্য মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। পরে পেছন থেকে আসা আরেকটি গাড়ির চালক বিষয়টি কাভার্ডভ্যানের চালক সজীবকে জানান। তিনি গাড়ি থামিয়ে দরজার তালা ভাঙা ও দরজা খোলা দেখতে পান। পরে দরজা লাগিয়ে রাজশাহী পৌঁছান। হোটেলে ক্রিকেটারদের কাছে মালামাল নামানোর সময় দেখা যায়, দলের ৫৪টি লাগেজের মধ্যে ৪৬টি রয়েছে। বাকি আটটি লাগেজ চুরি হয়েছে।

ক্রিকেটার মেহরব হাসান জানান, লাগেজে থাকা অন্য মালামাল উদ্ধার হলেও তার তিন লাখ টাকা উদ্ধার হয়নি। টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, এ ঘটনায় পুঠিয়া থানায় একটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলা দায়েরের পর আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৬:২১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
১

চলন্ত গাড়ি থেকে ‘ফিল্মি স্টাইলে’ চুরি করা ক্রিকেটারদের ৮টি লাগেজ উদ্ধার, আটক ৪

আপডেট: ০৬:২১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহীতে ক্রিকেটারদের চুরি যাওয়া আটটি লাগেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে এসব লাগেজ উদ্ধার করা হয়। রাজশাহী পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন চারঘাট উপজেলার চামটা গ্রামের মোজাম্মেল হক (৩২), পুঠিয়া উপজেলার গণ্ডগোহালী জামতলা গ্রামের সোহান রহমান (২৩) ও বারইপাড়া গ্রামের রুবেল আহমেদ (৩৮) ও তারাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেন (৫২)। তাদের মধ্যে শাহাদতের বাড়ি থেকে এসব লাগেজ উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মোজাদ্দেদ জামানী জানান, ‌ক্রিকেটারদের চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের খবর শুনে তিনি রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আটক মোজাম্মেল হকের পরনে ক্রিকেটারদের ব্যবহৃত পোশাক দেখেছেন।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বুধবার সকালে আকাশপথে রাজশাহী ফেরেন বিভাগের ক্রিকেটারেরা। এর আগের রাতে দলের ৫৪টি লাগেজ নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয় বিসিবির একটি কাভার্ডভ্যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ওই কাভার্ডভ্যানের পিছু নেন। একপর্যায়ে তারা চলন্ত কাভার্ডভ্যানের তালা ভেঙে লাগেজ ও অন্য মালামাল নিয়ে যায়। পেছন থেকে আসা অন্য একটি গাড়ির চালক বিষয়টি কাভার্ডভ্যানের চালক সজীবকে জানান। পরে রাজশাহী শহরের হোটেল গ্র্যান্ড রিভারভিউয়ে পৌঁছে চুরির বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান কাভার্ডভ্যানের চালক।

কাভার্ডভ্যান থেকে লাগেজ নামানোর সময় দেখা যায়, বিসিবি ডিভিশন ক্রিকেট দলের মোট ৫৪টি লাগেজের মধ্যে ৪৬টি পাওয়া গেছে। বাকি আটটি বিভিন্ন আকারের লাগেজ নেই। এ ঘটনায় রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানায় বুধবার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় চোরের দলটিকে শনাক্ত করে জেলা ডিবি পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেনের বাড়ি থেকে মালামালও উদ্ধার হয়। উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, একটি ম্যাসাজ বেড, একটি ল্যাপটপ, চারটি প্লাস্টিকের বাক্স ও নগদ আট হাজার টাকা। এ ছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত তালা ভাঙার সরঞ্জাম ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঢাকা থেকে রাজশাহী আসার পথে বুধবার ভোরে নাটোরের হরিশপুর বাইপাস মোড়ে চালক গাড়ির তালা পরীক্ষা করে আবার যাত্রা শুরু করেছিলেন। ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে পুঠিয়ার তারাপুর মোড়ে চলন্ত কাভার্ডভ্যানের পেছন থেকে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তালা ভেঙে লাগেজ ও অন্যান্য মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। পরে পেছন থেকে আসা আরেকটি গাড়ির চালক বিষয়টি কাভার্ডভ্যানের চালক সজীবকে জানান। তিনি গাড়ি থামিয়ে দরজার তালা ভাঙা ও দরজা খোলা দেখতে পান। পরে দরজা লাগিয়ে রাজশাহী পৌঁছান। হোটেলে ক্রিকেটারদের কাছে মালামাল নামানোর সময় দেখা যায়, দলের ৫৪টি লাগেজের মধ্যে ৪৬টি রয়েছে। বাকি আটটি লাগেজ চুরি হয়েছে।

ক্রিকেটার মেহরব হাসান জানান, লাগেজে থাকা অন্য মালামাল উদ্ধার হলেও তার তিন লাখ টাকা উদ্ধার হয়নি। টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, এ ঘটনায় পুঠিয়া থানায় একটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলা দায়েরের পর আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।