সোনাতলায় আসামি ধরতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার দুই পুলিশ সদস্য আহত
রেজাউল করিম মানিক,সোনাতলা প্রতিনিধি:- বগুড়ার সোনাতলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলাকারীরা পুলিশের কাছ থেকে আটক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১০জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার (৬ই নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।গ্ৰেফতারকৃতরা হলেন- মধুপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের ওয়াহিদুল ইসলামের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন,আব্দুল হালিমের মেয়ে মিতা খাতুন,মহিদুল ইসলামের স্ত্রী বিজলী বেগম,সালাম মাস্টারের স্ত্রী আমেনা বেগম,আতোয়ার ব্যাপারীর ছেলে রেজাউল করিম এবং বাবু ব্যাপারীর ছেলে তরিকুল ইসলাম।
এছাড়াও অন্যান্য আসামিদের গ্ৰেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়,আদালতের একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন-সংক্রান্ত মামলার সাজাপ্রাপ্ত সহ আরেকটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুস ছালাম মাষ্টার এর ছেলে এসএম গোলাম কবির সুমনকে গ্রেপ্তারের জন্য সোনাতলা থানা পুলিশের একটি দল ফুলবাড়ী গ্রামে গত পরশু শুক্রবার অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করতেও সক্ষম হন।
কিন্তু সুমনকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে এক নারী তাৎক্ষণিক উত্তেজিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই নারীর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ কয়েকজন নারী ও পুরুষ পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।এ হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা শিমুল দাস ও মেহেদী হাসান আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশের পিকআপ ভ্যানও ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সহকর্মীদের উদ্ধার করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।এ ঘটনায় ওই রাতেই সোনাতলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শিমুল দাস বাদী হয়ে ১০জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে শনিবার (৭ই নভেম্বর) সরেজমিনে ফুলবাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকার অনেক বাসিন্দাকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা,হামলা এবং সরকারি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশপাশ এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


















