সাদুল্লাপুরে ভুয়া চিকিৎসা সনদ দিয়ে ছুটি কাটানোর অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে
শামীম মিয়া, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:- গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদ্রাকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মরিয়ম রহমানের বিরুদ্ধে দফায় দফায় ভুয়া চিকিৎসা সনদ জমা দিয়ে ছুটি কাটানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সনদের তারিখ বারবার পরিবর্তন করে জালিয়াতির আশ্রয় নিলেও উক্ত শিক্ষিকাকে বিগত ৩ মাসের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ছুটির নিয়ম লঙ্ঘন ও জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কীভাবে তাঁর বিগত ৩ মাসের বেতন-ভাতা ছাড় করলেন, তা নিয়ে স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানির পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অনুরোধ জানিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। গত ০২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চ.দা.) সম্ভু চরন দাস স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠিতে এই অনুরোধ জানানো হয়। একই সাথে বর্তমানে ওই শিক্ষকের বেতন-ভাতা স্থগিত রাখা হয়েছে।
দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক মরিয়ম রহমান গত ২৬ জুন ২০২৬ তারিখে নৈমিত্তিক ছুটি গ্রহণ করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। পরবর্তীতে তিনি ০১ জুলাই হতে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসা ছুটির আবেদন করেন। এরপর ৩১ আগস্ট তারিখে যোগদান না করে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং ১ অক্টোবর তারিখেও যোগদান না করে পুনরায় ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ছুটির আবেদন জমা দিতে থাকেন।
অভিযোগ রয়েছে, উক্ত শিক্ষিকা তাঁর ছুটির আবেদনের সঙ্গে কোনো মূল চিকিৎসা সনদ (অরিজিনাল সার্টিফিকেট) দাখিল করেননি। দফায় দফায় জমা দেওয়া চিকিৎসা সনদের ফটোকপিগুলো যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, একই মূল সনদের ওপর বারবার তারিখ পরিবর্তন করে জালিয়াতি করা হয়েছে। অথচ এই দীর্ঘ ছুটির সময়েও শিক্ষা অফিসের যোগসাজশে তাঁর গত ৩ মাসের বেতন-ভাতা নিয়মিত তোলা হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের জালিয়াতি ও অসদাচরণের প্রেক্ষিতে উক্ত শিক্ষকের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এই চিঠির অনুলিপি অবগতি ও কার্যার্থের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং ইদ্রাকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককেও পাঠানো হয়েছে। একই সাথে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষকের ছুটি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল না করার কারণে প্রধান শিক্ষকের কাছেও জবাব চাওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মরিয়ম রহমানের স্থায়ী ঠিকানা বগুড়া পৌরসভার শাহজাহানপুর এলাকার করতোয়া রোড, চকলোকমান গ্রামে বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে ছুটি কাটানোর পরও বেতন পাওয়ার এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।





















