শান্তি আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের সাত শর্ত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে সাতটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে ইরান।
এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে- তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো, জব্দ করা ইরানি অর্থ ফেরত দেওয়া এবং সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ করা।
ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, গত সেপ্টেম্বরেই তেহরান এসব শর্তের কথা জানিয়েছিল। তবে সে সময় তিনি সব শর্তের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
সম্প্রতি এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তুলে ধরেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শর্তগুলো হলো-
১. মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: গত জুলাইয়ে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, সেগুলো তুলে নিতে হবে।
২. মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো: অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি হ্রাস করতে হবে।
৩. তেল রফতানিতে ছাড় পুনর্বহাল: জুনে ইসলামাবাদ সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানকে তেল রফতানিতে যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা আবার কার্যকর করতে হবে।
৪. জব্দ করা অর্থ ফেরত: কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ও সম্পদ মুক্ত করে দিতে হবে।
৫. হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথের স্বীকৃতি: ইরান ও ওমান নির্ধারিত হরমুজ প্রণালির নতুন জাহাজ চলাচলের পথ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে অন্য সব পথ বন্ধ করতে হবে বলে দাবি করেছে তেহরান।
৬. সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ: বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের হামলাসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
এদিকে সেপ্টেম্বরে রেজায়ি আরও দুটি দাবির কথা জানিয়েছিলেন। সেগুলো হলো- ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। এর মধ্যে ইরানের বিপ্লববিরোধীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের এসব শর্ত পূরণ না হলে শান্তি আলোচনা শুরু হবে না এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পথও তৈরি হবে না- তেহরানের অবস্থান থেকে এমনটাই স্পষ্ট হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা












