তাড়াইলের তালজাঙ্গায় কাঁচা সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে, দ্রুত পাকাকরণের আশ্বাস
তাড়াইল উপজেলা প্রতিনিধি:- কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের বান্দুলদিয়া আব্বাস আলী মাদ্রাসা থেকে খালপাড় ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটিতে কাদা ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এর ফলে বান্দুলদিয়া, কার্ত্তিকখিলা ও আকুবপুর—এই তিন গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার বাসিন্দা দীর্ঘ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
দুর্ভোগের চিত্র ও ক্ষয়ক্ষতি:
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এসব গর্তের কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি কৃষি পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও নিষ্ফল আবেদন:
স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ মিয়া, রানা মিয়া, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাস্টার মশিউর রহমান, শিক্ষক আদিল মাহমুদ হিমেল ও শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ইতিপূর্বে ৪০ দিনের কর্মসূচি ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কিছু মাটির কাজ করা হলেও স্থায়ী ইটের সোলিং বা পাকাকরণ না করায় দুর্ভোগের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ বিষয়ে এর আগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু জাহেদ ভূঁইয়া, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু (পিআইও) এবং সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার পপি খাতুনের নিকট বারবার আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে এলাকাবাসী কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন ও বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা আখতার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেন।
প্রশাসনের আশ্বাস :
সড়কটির করুণ দশা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা আক্তার জানান, তালজাঙ্গার এই সড়কটি সংস্কারের বিষয়টি অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে বরাদ্দ স্বল্পতার কারণে এটি নতুন করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সড়কটির উন্নয়ন ও পাকাকরণের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা এল জি ডি প্রকৌশলী কর্মকর্তা জাহিদুল হাসান জানান, রাস্তাটি এডিপিতে দেওয়া হয়েছে, বরাদ্দ এলেই কাজ সম্পন্ন করা হবে।
উপজেলা প্রশাসনের এই আশ্বাসে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট দূর হওয়ার ব্যাপারে আশার আলো দেখছেন ভুক্তভোগী তিন গ্রামের মানুষ। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত এই কাঁচা সড়কটি পাকাকরণ করা হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি কৃষি ও আর্থ-সামাজিক চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।



















