পটুয়াখালী যৌতুকের দাবিতে মায়ের সামনেই মেয়ের হাত-পায়ের রগ কাটল স্বামী
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:- পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ডে যৌতুকের জন্য সুমি বেগম নামের দুই সন্তানের এক গৃহবধূর হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী শাকিলের বিরুদ্ধে।
ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত শাকিলকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত ওই গৃহবধূ বর্তমানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য সুমির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল স্বামী শাকিল। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সুমির পরিবার বিভিন্ন এনজিও থেকে কিস্তি তুলে এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ টাকা জামাই শাকিলকে দিয়েছে। কিন্তু এতেও ক্ষান্ত হয়নি লুব্ধ স্বামী শাকিল। আরও টাকার জন্য সে প্রায়ই সুমিকে প্রাণনাশের হুমকি দিতো।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কিছুদিন আগে সুমিকে তার মায়ের বাড়িতে নিয়ে আসেন তার মা। গত দুই দিন আগে শাকিল শ্বশুরালয়ে এসে স্ত্রী সুমির নিকট আরো যৌতুক দাবি করে,যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে স্বামী শাকিল অতর্কিত হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমির এক হাত ও এক পায়ের রগ কেটে পালিয়ে যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুমির মা সাংবাদিকদের বলেন, “কিস্তি তুলে এ পর্যন্ত জামাইকে সাত লাখ টাকা দিছি। তবুও সে শান্ত হয়নি। আমার মেয়েকে আমার বাড়িতে এসে হাত-পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। আমি এই পৈশাচিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক ও সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এদিকে, পটুয়াখালীতে এ ধরনের লোমহর্ষক ঘটনায় পটুয়াখালীর সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি ও পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার সহ উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



















