১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে: পরিবেশমন্ত্রী

মো:শাহাদত হোসাইন, গাজীপুর প্রতিনিধি:-​ আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে পুরো বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন ও উন্নয়ন দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

​শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

​পরিবেশমন্ত্রী বলেন, “আমাদের পুরো দেশেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো আধুনিকায়ন করা হয়নি। ঢাকার আমিনবাজারে ইতোমধ্যে ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ (বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ) প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণেও ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্স’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এখন আমরা পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও এ কার্যক্রম শুরু করব। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক না হলে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছি এবং আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে পুরো বাংলাদেশেই এর দৃশ্যমান উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাবে।”

​সাফারি পার্কের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “একটি সাফারি পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে, যেন এটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়। খুব শীঘ্রই ঢাকায় বৈঠক ডেকে এই সাফারি পার্কের সব সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় সমাধান করা হবে।”

​সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “লেমুরটি অবৈধভাবে আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেটি পার্ক থেকে চুরি হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত চালাচ্ছি। একটি গুঞ্জন রয়েছে যে আম্বানির চিড়িয়াখানা থেকে দুটি লেমুর এখানে এসেছিল—তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে এটি সত্য যে এখান থেকে দুটি লেমুর চুরি হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে যারা দায়ী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​বনের জমিতে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা প্রসঙ্গে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, “যে দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,৪০০ লোক বসবাস করে এবং প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরির বাজারে আসে, সেখানে চাইলেই শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমান আইন অনুযায়ী, বিদ্যমান যে শিল্প কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে বনের জমি দখলের অভিযোগ ছিল, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে আইনি ব্যবস্থার বাইরে যেগুলো রয়েছে, সেগুলোতে আমরা হাত দিতে পারি না।”

​তিনি আরও বলেন, “একটি সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতরেই সাধারণ মানুষের প্রায় ৪৬৫ একর ব্যক্তিগত জমি রয়েছে। বনের ভেতরে হওয়ায় মালিকেরা সেই জমিতে যেতে পারছেন না, আবার কোনো ব্যবহারও করতে পারছেন না। অপরদিকে বনাঞ্চলের ভেতরে অনেক জনবসতি গড়ে উঠলেও যাতায়াতের জন্য রাস্তা দেওয়া যাচ্ছে না। এসকল জটিলতা নিরসনে আইনি বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট আইন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে চলতি মাসের মধ্যেই আমরা একটি বৈঠক করব, যাতে জনগণের ভোগান্তি কমায় এমন কোনো সমাধান বের করা যায়।”

​এর আগে দুপুরে মন্ত্রী গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও পরবর্তীতে গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন।

​পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল মামুন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী, সহকারী বন সংরক্ষক মো. সামসুল আরেফিন, গাজীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুবক্কর সিদ্দিক, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মো. বিল্লাল হোসেন বেপারী এবং সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৪:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
১

আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে: পরিবেশমন্ত্রী

আপডেট: ০৪:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মো:শাহাদত হোসাইন, গাজীপুর প্রতিনিধি:-​ আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে পুরো বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন ও উন্নয়ন দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

​শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

​পরিবেশমন্ত্রী বলেন, “আমাদের পুরো দেশেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো আধুনিকায়ন করা হয়নি। ঢাকার আমিনবাজারে ইতোমধ্যে ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ (বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ) প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণেও ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্স’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এখন আমরা পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও এ কার্যক্রম শুরু করব। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক না হলে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছি এবং আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে পুরো বাংলাদেশেই এর দৃশ্যমান উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাবে।”

​সাফারি পার্কের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “একটি সাফারি পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে, যেন এটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়। খুব শীঘ্রই ঢাকায় বৈঠক ডেকে এই সাফারি পার্কের সব সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় সমাধান করা হবে।”

​সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “লেমুরটি অবৈধভাবে আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেটি পার্ক থেকে চুরি হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত চালাচ্ছি। একটি গুঞ্জন রয়েছে যে আম্বানির চিড়িয়াখানা থেকে দুটি লেমুর এখানে এসেছিল—তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে এটি সত্য যে এখান থেকে দুটি লেমুর চুরি হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে যারা দায়ী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​বনের জমিতে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা প্রসঙ্গে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, “যে দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,৪০০ লোক বসবাস করে এবং প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরির বাজারে আসে, সেখানে চাইলেই শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমান আইন অনুযায়ী, বিদ্যমান যে শিল্প কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে বনের জমি দখলের অভিযোগ ছিল, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে আইনি ব্যবস্থার বাইরে যেগুলো রয়েছে, সেগুলোতে আমরা হাত দিতে পারি না।”

​তিনি আরও বলেন, “একটি সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতরেই সাধারণ মানুষের প্রায় ৪৬৫ একর ব্যক্তিগত জমি রয়েছে। বনের ভেতরে হওয়ায় মালিকেরা সেই জমিতে যেতে পারছেন না, আবার কোনো ব্যবহারও করতে পারছেন না। অপরদিকে বনাঞ্চলের ভেতরে অনেক জনবসতি গড়ে উঠলেও যাতায়াতের জন্য রাস্তা দেওয়া যাচ্ছে না। এসকল জটিলতা নিরসনে আইনি বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট আইন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে চলতি মাসের মধ্যেই আমরা একটি বৈঠক করব, যাতে জনগণের ভোগান্তি কমায় এমন কোনো সমাধান বের করা যায়।”

​এর আগে দুপুরে মন্ত্রী গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও পরবর্তীতে গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন।

​পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল মামুন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী, সহকারী বন সংরক্ষক মো. সামসুল আরেফিন, গাজীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুবক্কর সিদ্দিক, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মো. বিল্লাল হোসেন বেপারী এবং সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।