০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স, শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

ফ্রান্সের হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষা উপকরণ এবং অর্থায়নের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছে। যা ইতিমধ্যে সহিংস রূপ ধারণ করেছে। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে প্রায় চারশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার ক্রমবর্ধমান সহিংস আন্দোলন দমনে চেষ্টা চালাচ্ছে। এরমধ্যে সার্সবার্গে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসে ছেয়ে যায় আশপাশ। অপরদিকে মার্সেইতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ফায়ারওয়ার্কস ছুড়ে শিক্ষার্থীরা। আর রেঁসে একটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

রাজধানী প্যারিসেও থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানকার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

ফ্রান্সে আর ছয় মাস পর হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে ম্যাক্রোঁর মধ্য ডানপন্থি সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে। এরমধ্যে ম্যাক্রোঁ দেশটির বাজেটে কাটছাট করেছেন। যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাখাতে। আর এটিই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন উস্কে দিয়েছে।

গত সপ্তাহে প্যারিসে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এরপর এটি দিনে দিনে সহিংস রূপ ধারণ করেছে। এক সপ্তাহে প্রায় ২ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী। দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সহিংসতার কারণে সম্পদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটির ক্ষতিপূরণ আটককৃতদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে নেওয়া উচিত।

অপরদিকে শিক্ষামন্ত্রী এডোয়ার্ড জেফরে শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়েদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন, তাদের সন্তানদের যেন তারা বাইরে বের না হতে দেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সরকারি অর্থায়নের অভাবে তাদের শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত বেঞ্চও নেই। এছাড়া শ্রেণিকক্ষের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। যা শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষুন্ন করছে। তারা অর্থায়ন ও শিক্ষায় ব্যয় বাড়ানোর দাবি করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৭:২১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
২

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স, শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

আপডেট: ০৭:২১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সের হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষা উপকরণ এবং অর্থায়নের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছে। যা ইতিমধ্যে সহিংস রূপ ধারণ করেছে। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে প্রায় চারশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার ক্রমবর্ধমান সহিংস আন্দোলন দমনে চেষ্টা চালাচ্ছে। এরমধ্যে সার্সবার্গে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসে ছেয়ে যায় আশপাশ। অপরদিকে মার্সেইতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ফায়ারওয়ার্কস ছুড়ে শিক্ষার্থীরা। আর রেঁসে একটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

রাজধানী প্যারিসেও থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানকার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

ফ্রান্সে আর ছয় মাস পর হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে ম্যাক্রোঁর মধ্য ডানপন্থি সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে। এরমধ্যে ম্যাক্রোঁ দেশটির বাজেটে কাটছাট করেছেন। যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাখাতে। আর এটিই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন উস্কে দিয়েছে।

গত সপ্তাহে প্যারিসে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এরপর এটি দিনে দিনে সহিংস রূপ ধারণ করেছে। এক সপ্তাহে প্রায় ২ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী। দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সহিংসতার কারণে সম্পদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটির ক্ষতিপূরণ আটককৃতদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে নেওয়া উচিত।

অপরদিকে শিক্ষামন্ত্রী এডোয়ার্ড জেফরে শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়েদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন, তাদের সন্তানদের যেন তারা বাইরে বের না হতে দেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সরকারি অর্থায়নের অভাবে তাদের শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত বেঞ্চও নেই। এছাড়া শ্রেণিকক্ষের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। যা শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষুন্ন করছে। তারা অর্থায়ন ও শিক্ষায় ব্যয় বাড়ানোর দাবি করছে।