দিল্লিতে জেন-জিদের বিক্ষোভ, চার হাজার পুলিশ মোতায়েন
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) গনেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জেন-জিদের দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভে ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দিল্লিতে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১১টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার গনেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার (২ অক্টোবর) জেন-জিদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির আহ্বানে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে এই কর্মসূচি পালনের জন্য কোনো সংগঠনকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলা পুলিশ, রিজার্ভ বাহিনী, দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী এবং অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০টি কোম্পানিও দায়িত্বে থাকবে। বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
দিল্লি মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মান্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওড়ি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ ও নয়াদিল্লি—এই ১১টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকবে। তবে রাজীব চক, মান্ডি হাউস, আইএনএ, নয়াদিল্লি ও কেন্দ্রীয় সচিবালয় স্টেশনে লাইন পরিবর্তনের সুবিধা চালু থাকবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা ছিল। সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতি জানিয়েছে, তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির পক্ষ থেকে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কর্মসূচির বিষয়ে লিখিত তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার গনেশ কুমারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছেন। তবে মুম্বাই পুলিশও ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। ভারতীয় যুব কংগ্রেসও যন্তর মন্তরে কর্মসূচির অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু তাদেরও অনুমতি দেওয়া হয়নি।
যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তলস্তয় মার্গ, জনপথ রোড, সংসদ মার্গ থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। তলস্তয় মার্গ ও কেরালা ভবনের দিক থেকেও বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের পথ আটকে দেওয়া হয়েছে। অশোকা রোডের কাছেও অতিরিক্ত ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
এছাড়া নতুন দিল্লি জেলায় নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। যানজট ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় দিল্লির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেও আবেদন করা হয়েছে।


















