০৪:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রীলঙ্কায় গণকবরের সন্ধান, ৫৮২ জনের কঙ্কাল উদ্ধার

শ্রীলঙ্কার একটি গণকবর থেকে শিশু ও নাবালকদের কঙ্কালসহ মোট ৫৮২টি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ২৬ বছর দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ সমাপ্তির পর শ্রীলঙ্কায় আবিষ্কৃত এটি অন্যতম বৃহত্তম গণকবর। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর জাফনার কাছে কেম্মানি এলাকা থেকে খননকারীরা উদ্ধারকরা কঙ্কালের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও উদ্ধার করেছেন। এসব জিনিসের মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিকের দুধের বোতল, শিশুদের খেলনা, ছোট স্কুল ব্যাগ, জুতা এবং চুড়ি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশ কয়েকটি কঙ্কালে স্পষ্টভাবেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে একটি কঙ্কালের দুই হাত বুকের সঙ্গে শক্ত করে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

উদ্ধার হওয়া ৫৮২ জনের এই দেহাবশেষ সরকারিভাবে নিখোঁজের তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকরাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের এগুলো পরীক্ষা করতে হবে এবং বেঁচে থাকা স্বজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তা মেলাতে হবে।

শ্রীলঙ্কায় গণকবর সংক্রান্ত তদন্তে কেম্মানি এলাকাটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। শ্রীলঙ্কার সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী এবং ‘লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম’ এর মধ্যে দশকব্যাপী চলা সশস্ত্র সংঘাতের সময়ে বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত।

দীর্ঘদিনের জাতিগত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গঠিত এলটিটিই শ্রীলঙ্কার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে তামিলদের জন্য একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের দাবিতে লড়াই করেছিল। এই সংঘাতের সময় শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী এবং এলটিটিই উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

১৯৮৩ সালে শুরু হয়ে ২০০৯ সালের মে মাসে সমাপ্ত হওয়া এই গৃহযুদ্ধে আনুমানিক ১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন জাতিগত তামিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং নিখোঁজদের পরিবারগুলো এখন পুনরায় একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, শ্রীলঙ্কায় এর আগের গণকবরগুলোর তদন্তে ভুক্তভোগীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কিংবা অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন।

তবে শ্রীলঙ্কা সরকার জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, কেম্মানি এলাকার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং দেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই তা পরিচালিত হওয়া উচিত। তামিল পরিবারগুলোকে সরকারি সংস্থাগুলো ব্যর্থ করেছে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী হার্শানা নানায়াক্কারা।

তিনি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আমি সবার কাছে আবেদন করছি, অতীতের রেকর্ড দেখে এই সংস্থাগুলোকে বিচার করবেন না, বরং আমাদের বর্তমান সরকারের অধীনে তারা যেভাবে কাজ করছে তা দিয়ে তাদের মূল্যায়ন করুন।

সূত্র: এনডিটিভি

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৫:১২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রীলঙ্কায় গণকবরের সন্ধান, ৫৮২ জনের কঙ্কাল উদ্ধার

আপডেট: ০৫:১২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রীলঙ্কার একটি গণকবর থেকে শিশু ও নাবালকদের কঙ্কালসহ মোট ৫৮২টি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ২৬ বছর দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ সমাপ্তির পর শ্রীলঙ্কায় আবিষ্কৃত এটি অন্যতম বৃহত্তম গণকবর। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর জাফনার কাছে কেম্মানি এলাকা থেকে খননকারীরা উদ্ধারকরা কঙ্কালের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও উদ্ধার করেছেন। এসব জিনিসের মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিকের দুধের বোতল, শিশুদের খেলনা, ছোট স্কুল ব্যাগ, জুতা এবং চুড়ি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশ কয়েকটি কঙ্কালে স্পষ্টভাবেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে একটি কঙ্কালের দুই হাত বুকের সঙ্গে শক্ত করে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

উদ্ধার হওয়া ৫৮২ জনের এই দেহাবশেষ সরকারিভাবে নিখোঁজের তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকরাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের এগুলো পরীক্ষা করতে হবে এবং বেঁচে থাকা স্বজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তা মেলাতে হবে।

শ্রীলঙ্কায় গণকবর সংক্রান্ত তদন্তে কেম্মানি এলাকাটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। শ্রীলঙ্কার সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী এবং ‘লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম’ এর মধ্যে দশকব্যাপী চলা সশস্ত্র সংঘাতের সময়ে বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত।

দীর্ঘদিনের জাতিগত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গঠিত এলটিটিই শ্রীলঙ্কার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে তামিলদের জন্য একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের দাবিতে লড়াই করেছিল। এই সংঘাতের সময় শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী এবং এলটিটিই উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

১৯৮৩ সালে শুরু হয়ে ২০০৯ সালের মে মাসে সমাপ্ত হওয়া এই গৃহযুদ্ধে আনুমানিক ১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন জাতিগত তামিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং নিখোঁজদের পরিবারগুলো এখন পুনরায় একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, শ্রীলঙ্কায় এর আগের গণকবরগুলোর তদন্তে ভুক্তভোগীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কিংবা অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন।

তবে শ্রীলঙ্কা সরকার জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, কেম্মানি এলাকার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং দেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই তা পরিচালিত হওয়া উচিত। তামিল পরিবারগুলোকে সরকারি সংস্থাগুলো ব্যর্থ করেছে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী হার্শানা নানায়াক্কারা।

তিনি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আমি সবার কাছে আবেদন করছি, অতীতের রেকর্ড দেখে এই সংস্থাগুলোকে বিচার করবেন না, বরং আমাদের বর্তমান সরকারের অধীনে তারা যেভাবে কাজ করছে তা দিয়ে তাদের মূল্যায়ন করুন।

সূত্র: এনডিটিভি