০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের হেনস্তা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শাস্তির মুখে ছাত্রদলের ৫ নেতা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক

মো: ফখর উদ্দিন, নোয়াখালী থেকে:

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের হেনস্তা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের অনুমোদনের কথা উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে কলেজে এ ঘটনা ঘটে। বহিষ্কৃতরা হলেন, কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওন।

এছাড়া সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক পরিষদের অভিযোগ, বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ও পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত বিষয়ে চাঁদা না দেওয়ায় কিছুদিন ধরে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছিলেন।

ঘটনার সময় অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক কার্যালয়ের একটি কক্ষে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় একদল ছাত্রদল নেতা-কর্মী কক্ষে প্রবেশ করে তাদের গালমন্দ করেন এবং খাবারের টেবিল থেকে উঠে যেতে বাধ্য করেন। এক পর্যায়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে তার শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলা হয়।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
নোয়াখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম সানা উল্লাহ বলেন, “চাঁদা না দেওয়ায় কিছুদিন ধরে তারা নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। সর্বশেষ ঘটনা পরিস্থিতিকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে তর্কের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে এক ছাত্র ক্ষুব্ধ হয়ে ফুলের টব ও একটি গ্লাস ভাঙচুর করে, তবে এর সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৫:২০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের হেনস্তা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শাস্তির মুখে ছাত্রদলের ৫ নেতা

আপডেট: ০৫:২০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

মো: ফখর উদ্দিন, নোয়াখালী থেকে:

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের হেনস্তা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের অনুমোদনের কথা উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে কলেজে এ ঘটনা ঘটে। বহিষ্কৃতরা হলেন, কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওন।

এছাড়া সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক পরিষদের অভিযোগ, বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ও পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত বিষয়ে চাঁদা না দেওয়ায় কিছুদিন ধরে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছিলেন।

ঘটনার সময় অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক কার্যালয়ের একটি কক্ষে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় একদল ছাত্রদল নেতা-কর্মী কক্ষে প্রবেশ করে তাদের গালমন্দ করেন এবং খাবারের টেবিল থেকে উঠে যেতে বাধ্য করেন। এক পর্যায়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে তার শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলা হয়।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
নোয়াখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম সানা উল্লাহ বলেন, “চাঁদা না দেওয়ায় কিছুদিন ধরে তারা নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। সর্বশেষ ঘটনা পরিস্থিতিকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে তর্কের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে এক ছাত্র ক্ষুব্ধ হয়ে ফুলের টব ও একটি গ্লাস ভাঙচুর করে, তবে এর সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।