ঈদগাঁয় রাতের আঁধারে পুকুর ভরাটের অভিযোগ, শুনানিতে অনুপস্থিত অভিযুক্তরা
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:চট্টগ্রাম নগরীর ঈদগাঁ কাঁচা রাস্তা এলাকার ছায়াবীথি আবাসিকে রাতের আঁধারে পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে মো. আরিফ ইকবাল ও আসিফ ইকবালের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করলেও নির্ধারিত শুনানির দিনে অভিযুক্ত পক্ষের কেউ উপস্থিত হননি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রে জানা যায়, ছায়াবীথি আবাসিক এলাকার একটি পুকুরে মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে গত ১৪ অক্টোবর পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন মো. মোনতাসির মহসিন খান। অভিযোগে পুকুর ভরাট বন্ধসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ অক্টোবর ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল। অভিযান শেষে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার জন্য ১৮ অক্টোবর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
তবে নির্ধারিত দিনে শুনানিতে অভিযোগকারী মো. মোনতাসির মহসিন খান উপস্থিত থাকলেও অভিযুক্ত মো. আরিফ ইকবাল ও আসিফ ইকবাল কিংবা তাদের পক্ষের কেউ উপস্থিত হননি বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।
এতে পুকুর ভরাটের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য গ্রহণ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হবে—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালক সোনিয়া সুলতানার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট জায়গার খতিয়ানে পুকুর হিসেবে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও সেখানে মাটি ফেলে ভরাটের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে পুকুর ভরাট বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬ঙ ধারায় জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা তার শ্রেণি পরিবর্তনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে অভিযোগটি সঠিক হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীতে একের পর এক জলাধার ভরাটের কারণে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই ছায়াবীথি আবাসিকের কথিত পুকুর ভরাটের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

























