০১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

দখল–প্রতারণা–দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত আ.লীগ নেতা ডাঃ হোসেন গ্রেফতার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক

মোঃ শহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম থেকে:

চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং আলোচিত চিকিৎসক-রাজনীতিক ডাঃ মোঃ হোসেন আহমদকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে নিউমুরিং এলাকার নিজ বাসভবন থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে ইপিজেড থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ডাঃ হোসেন এলাকায় দখলবাজি, প্রতারণা ও নানা অনিয়ম চালিয়ে আসছিলেন। নিকট আত্মীয়-স্বজনদের ঘরবাড়ি ও জমি দখল, ব্যক্তিমালিকানাধীন ফার্মেসি জবরদখল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া তার মালিকানাধীন বন্দরটিলা ফ্যামিলি হেলথ ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এর মাধ্যমে অসহায় রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, অল্প চিকিৎসাকে বড় করে দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, রোগ নির্ণয়ে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান এবং রোগীদের সাথে অমানবিক আচরণ করতেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা আরও জানান, করোনা মহামারির সময় সরকারের উদ্যোগে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বন্দর-ইপিজেড-পতেঙ্গা হাসপাতালের যন্ত্রাংশ, অর্থ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুদান আত্মসাতসহ অসংখ্য আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তার নাম জড়িত ছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি ছিলেন এ.আর. আরাফাত চৌধুরীর সূচিন্তা ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম পরিচালক এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বচিপ পরিষদের নির্বাহী সদস্য। এসব পদ-পদবি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করে একের পর এক অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতেন।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান—“আমরা প্রাথমিকভাবে অভিযোগ যাচাই করে তাকে গ্রেফতার করেছি। তদন্ত শেষে আদালতে প্রেরণ করা হবে। বর্তমানে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”

স্থানীয় সাধারণ মানুষ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে দাপট দেখিয়ে চলা এ চিকিৎসক-রাজনীতিকের গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০১:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৯৩

দখল–প্রতারণা–দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত আ.লীগ নেতা ডাঃ হোসেন গ্রেফতার

আপডেট: ০১:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোঃ শহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম থেকে:

চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং আলোচিত চিকিৎসক-রাজনীতিক ডাঃ মোঃ হোসেন আহমদকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে নিউমুরিং এলাকার নিজ বাসভবন থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে ইপিজেড থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ডাঃ হোসেন এলাকায় দখলবাজি, প্রতারণা ও নানা অনিয়ম চালিয়ে আসছিলেন। নিকট আত্মীয়-স্বজনদের ঘরবাড়ি ও জমি দখল, ব্যক্তিমালিকানাধীন ফার্মেসি জবরদখল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া তার মালিকানাধীন বন্দরটিলা ফ্যামিলি হেলথ ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এর মাধ্যমে অসহায় রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, অল্প চিকিৎসাকে বড় করে দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, রোগ নির্ণয়ে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান এবং রোগীদের সাথে অমানবিক আচরণ করতেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা আরও জানান, করোনা মহামারির সময় সরকারের উদ্যোগে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বন্দর-ইপিজেড-পতেঙ্গা হাসপাতালের যন্ত্রাংশ, অর্থ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুদান আত্মসাতসহ অসংখ্য আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তার নাম জড়িত ছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি ছিলেন এ.আর. আরাফাত চৌধুরীর সূচিন্তা ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম পরিচালক এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বচিপ পরিষদের নির্বাহী সদস্য। এসব পদ-পদবি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করে একের পর এক অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতেন।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান—“আমরা প্রাথমিকভাবে অভিযোগ যাচাই করে তাকে গ্রেফতার করেছি। তদন্ত শেষে আদালতে প্রেরণ করা হবে। বর্তমানে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”

স্থানীয় সাধারণ মানুষ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে দাপট দেখিয়ে চলা এ চিকিৎসক-রাজনীতিকের গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে।